অ্যালার্জি কিছু কিছু ক্ষেত্রে হাঁপানির কারণ হতে পারে । কিন্তু যাদের অ্যালার্জি আছে তাদের সবার অ্যাজমা হয় না। এমনকি অ্যালার্জির কারণে অ্যাজমা হয় না।
বাচ্চাদের কেন এলার্জি হয়?
সাধারণত, আমাদের ইমিউন সিস্টেম (immune system) আমাদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করে এবং জীবাণুর সাথে লড়াই করে।
কিন্তু অ্যালার্জিযুক্ত বাচ্চাদের মধ্যে ইমিউন সিস্টেম অ্যালার্জেন (যেমন পরাগ বা পোষা প্রাণীর খুশকি ) নামক পদার্থগুলোকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যেন তারা একটি খারাপ জীবাণুর মতো শরীরে আক্রমণ করেছে। যখন ইমিউন সিস্টেম অ্যালার্জেনকে প্রতিক্রিয়া করে, তখন একটি শিশুর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, চুলকানি ইত্যাদি। এমনকি কিছু বাচ্চাদের হাঁপানির উপসর্গও দেখা যায়, যেমন কাশি, শ্বাসকষ্ট বা বুকে আঁটসাঁট অনুভূতি।
অ্যালার্জি কি হাঁপানির কারণ হতে পারে?
বাচ্চাদের যদি শ্বাসকষ্ট হয়, তবে শ্বাসকষ্ট হবার কারণ সনাক্ত করাটা জরুরী। প্রয়োজনে ডাক্তারের কাছ থেকে সঠিক তত্ত জেনে রাখবেন কেন বাচ্চার এজমা হচ্ছে। এটা সত্য যে হাঁপানি কিছু কিছু ক্ষেত্রে বংশীয় হতে পারে, তবে সেটা খুব বিরল।
বিজ্ঞ ডাক্তাররা ওষুধ দেবার আগে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করেন যে কোন কোন বিষয়ে বাচ্চাদের অ্যালার্জি আছে। যদি অ্যালার্জি থাকে, অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া প্রতিরোধ করার সর্বোত্তম উপায় হল অ্যালার্জি হবার বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা। অনেক অভিভাবক ভাবেন তাদের বাচ্চাদের ওষুধের মাধ্যমে অ্যালার্জি দমিয়ে রাখাটা ভালো। এই ভাবনাটা খুবই বিপদজনক। অভিজ্ঞ ডাক্তাররা অ্যালার্জি প্রতিরোধে অ্যালার্জির হবার কারণগুলো এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেন এবং অতি প্রয়োজন ছাড়া ওষুধ ব্যবহারে অনুৎসাহী করেন।
ডিমের অ্যালার্জি
বাচ্চাদের স্বাস্থ্য বৃদ্ধিতে ডিম অতি প্রয়োজনীয়। সাভাবিক বাচ্চাদের নিয়মিত ডিম খাওয়ানো উচিত। কিন্তু যদি বাচ্চার অ্যালার্জির লক্ষণ থাকে তবে সেটা এখনই বর্জন করা উচিত। কিছু বাচ্চাদের ডিমে মারাত্মক অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমনটা হলে তাদের ডিম বা ডিমের তৈরি খাবার খেতে না দেওয়াটাই উচিত। কিন্তু সুসংবাদ হল বেশিরভাগ বাচ্চারা (কিন্তু সকলেই নয়) একটা বয়সে এসে এই অ্যালার্জিকে প্রতিরোধ করতে পারে এবং তারা কোন সমস্যা ছাড়াই নিয়মিত ডিম খেতে পারে। তবে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল থাকলে এ সমস্যা সহজে ঠিক হয় না।

0 Comments