সুলতানা রাজিয়া কুমিল্লা দৌলখাঁড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ২০১৩ হতে কর্মরত আছেন। স্বামী মোঃ মাসুদুর রহমান ঢাকার বাড্ডা থানার সাতারকুল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ব্যবসাহী। দুই সন্তানের বড় সন্তানের জন্ম হয় ২০১৪ সালে। জন্মের কয়েকমাস পর ডাক্তার জানান তাদের মেয়ে মাহবুবা বুশরা শারিরিকভাবে প্রতিবন্ধী এবং তার সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন। নিয়মিত থেরাপি ও পারিবারিক সহযোগিতা পেলে বাচ্চাটি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। বাচ্চার চিকিৎসা নিয়ে তারা ইবনে সিনা হসপিটালের অটিস্টিক বিভাগের ডাঃ কানিজ ফাতেমার সাথে কথা বললে তিনি জানান বাচ্চাটি শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও মানুসিকভাবে এখনো সুস্থ। তবে নিয়মিত থেরাপি ও সঠিক চিকিৎসা না হলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাচ্চার মানুসিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, ফলে পরবর্তীতে বাচ্চাটির সুস্থ হবার সম্ভাবনা থাকবে না। এমতবস্থায়, সন্তানের চিকিৎসার স্বার্থে সুলতানা রাজিয়া কুমিল্লা থেকে তার স্বামীর স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার বাড্ডা থানার যেকোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হওয়ার জন্য আবেদন করতে চান। কিন্তু আবদনের জন্য যে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রয়োজন তা সংগ্রহ করাটা ছিলো সময় সাপেক্ষ। দু'বছরের চেস্টায় সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করে ২০১৯ সালে কুমিল্লা থেকে ঢাকা বদলির জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করেন। এরপর থেকে ২০২২ এর নভেম্বর পর্যন্ত বেশ কয়েকবার মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করার পরও বিভিন্ন অজুহাতে বদলির সময় পিছানো হয়েছে। মাসুদুর রহমান জানান "আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার, বাচ্চার চিকিৎসার স্বার্থে আমাদের দুজনের উপার্জন করতে হয়। আমি ঢাকা থাকি এবং আমার স্ত্রী আমাদের সন্তানকে নিয়ে কুমিল্লা থাকে। আমি আমার অসুস্থ সন্তানকে নিজের কাছে রেখে দেখাশোনা করতে পারছি না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে যোগাযোগ করলে তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছে। বলছে বিভাগীয় বদলির জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ লাগবে। আমি একজন সাধারণ মানুষ, আমি কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ নিয়ে আসবো? এদিকে ডাক্তার জানিয়েছে আমার বাচ্চার অবস্থা দিন দিন অবনতি হচ্ছে। ডাক্তারের সমস্ত রিপোর্ট অধিদপ্তরে জমা দেওয়া আছে তবুও কোন মানবিক বিবেচনা করা হচ্ছে না।" অটিস্টিক বিশেষজ্ঞ ডাঃ কানিজ ফাতেমাকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান "বাচ্চাটির সুস্থতা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও থেরাপি না দিলে অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে।"
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এ ধরণের খামখেয়ালী আমাদের হতাশ করে তোলে। যদি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্ত নেবার আইন না থাকে তবে সাধারণ মানুষ কার কাছে সাহায্যের জন্য যাবে? একজন সাধারণ শিক্ষক কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সুপারিশ সংগ্রহ করতে পারে ? শিশুশ্রম নিয়ে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের মিরপুর শাখার সভাপতি মোঃ নাজির হোসেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন " সরকার প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার নিয়ে খুবই সচেতন এবং এ বিষয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। মিরপুর স্বেচ্ছাসেবক লীগ অবহেলিত শিশু ও বৃদ্ধদের সাহায্যে কাজ করছে। আমরা প্রতিবন্ধী শিশুর বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে দেখছি। আমরা আশা রাখি, সঠিক সময়ে শিশুটিকে রক্ষা করতে পারব।"
.png)
0 Comments